Posts

Showing posts with the label কলাম

আহ্বানঃ কুড়িগ্রামবাসীর প্রতি

Image
হাত বদল হচ্ছে পৃথিবীর অধিকার, তবু- ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না আমাদের। কুড়িগ্রাম জেলা বলে কথা। এখানকার ঊর্বরতার প্রধান সহায়ক এখন লাঙ্গল। লাঙ্গলের আবিষ্কারে পৃথিবীতে এক নূতন বিপ্লবের সুচনা ঘটেছিল। মানুষ শস্য উৎপাদন করে ক্ষুধামুক্ত হবার প্রচেষ্টায় দলে দলে নেমেছিল। ক্ষুধার কিছুটা লাঘবও হয়েছিল বটে। আমার ধারণা একমাত্র জীব- মানুষ-ই সৃজনশীল। আর এই সৃজনশীলতা নিয়ে মানুষ নূতন বিপ্লব সৃষ্টির নেশায় উদত্ত থাকতো। তারপর মানুষ একে একে আবিষ্কার করতে থাকলো চাকা, মটর, রেল, উড়োজাহাজ, রকেট থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। তবু মানুষ ক্ষুধামুক্ত হতে পারল না। বরং ক্ষুধা, সৃষ্টির সমানুপাতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করল। মানুষের আদিকালের পেটের ক্ষুধা এখন অতি-আধুনিক যুগে এসে রুপ নিয়েছে- মনন,শারীরিক, দৈহিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষুধাতে। তাই ক্ষুধার্ত মানুষের এক টালমাতাল এখনকার এই অত্যাধুনিক বিশ্ব। আদিম কালের অজ্ঞতা ক্রমে পুঁজিবাদের দিকে যেমন প্রবহমান ছিল, ঠিক আজ সেই পুঁজিবাদ যথেষ্ট ক্ষমতার ভারে নব্য ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়েছে। এখন মানুষ তুরি দেবার ক্ষমতা পেলেই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। যেন বসতে পেলে ওঠবার উচিত্যকে ভুলে বস...

কুড়িগ্রাম নিয়ে আমার অভিমত

Image
লিখেছেন- আনু ইসলাম বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘খানা আয় ব্যয় জরিপ’-২০১৪ এবং ২০১৬ সালে দারিদ্র্যে শীর্ষ জেলাঃ কুড়িগ্রাম। বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত ২২৪৫.০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তন এবং ছোট বড় মিলে মোট ১৬টি নদনদী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই জেলাটি। যার মোট নদী পথের দৈর্ঘ্য ১৪৭.২০ কিলোমিটার। উক্ত জেলায় প্রবাহমান মূল ধারার নদনদীগুলো- ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, দুধকুমার এবং তিস্তা। নদী অববাহিকায় গড়ে উঠা এই জেলাটির ৯টি উপজেলার, ৩টি পৌরসভা ও ৭৩টি ইউনিয়নে ২০.৬৯ লাখের অধিক মানুষের বসবাস। মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৪লাখ মানুষ ৬০-৬৫টি ইউনিয়নের ৪৫০টি চরে মানবেতর জীবন যাপন করে। কুড়িগ্রাম জেলায় শিক্ষার গড় হার ৫৬.৪৫ শতাংশ, যা বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য বড় লজ্জার বিষয়। কুড়িগ্রামের বৃহৎ জনগোষ্ঠি কৃষির উপর নির্ভরশীল। এই জনগোষ্ঠির আয়ের ৭০.৪১ শতাংশই আসে কৃষি থেকে। বর্তমান জেলাটির মোট আবাদী জমির পরিমাণ ১,৬৭,৪৬৭ হেক্টর। যা বর্না ও নদী ভাঙ্গনের ফলে দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে বৃহত্তর এই জনগোষ্ঠি ধাবিত হচ্ছে চরম এক সংকটের দিকে। নদী ভাঙ্গন বাংলাদেশের একটি স্থায়ী ও পুনঃসংঘটিত প্রাকৃত...

গান (মেধা) ছিনতাই চেষ্টার তিব্র প্রতিবাদঃ-

Image
লিখেছেন- মোহাম্মদ গোলজার হোসেন আশির দশকে ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন রচিত ও সুরারোপিত মা'কে নিয়ে বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গান "মাও বড় ধন সোনা'রে" গত চল্লিশ বছরের অধিক সময় ধরে রেডিও, টেলিভিশন ও মঞ্চে দেশবিদেশের বহু স্বনামধন্য সঙ্গীতশিল্পীগণ গেয়ে আসছেন। ১৯৯২ সালের ২২ আগষ্ট ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীনের মৃত্যুর অনেক পরে ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আবিস্কৃত হলে এসব মাধ্যমেও বহু স্বনামধন্য সঙ্গীতশিল্পী বিখ্যাত এ গানটি এখনো গেয়ে আসছেন। "মাও বড় ধন সোনা'রে" হৃদয়স্পর্শী এ ভাওয়াইয়া গানটি নিছক কোনো সাধারণ গান নয়। এ গানটি ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীনের জীবনকাহিনীর অংশ। তাঁর জীবনে ঘটে যওয়া ঘটনার আলোকে তিনি (কছিম উদ্দীন) গানটি রচনা ও সুরারোপ করেছেন। কছিম উদ্দীন রচিত ও সুরারোপিত এমন আরও অনেক গান আছে যা তাঁর দুঃখে ভরা ঘটনাবহুল জীবনের একেকটি খণ্ড কাহিনি। ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীনের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সে গানগুলো শুনলে এখনো আমার বাবার জন্য মন কাঁদে, ভীষণ আফসোস হয়। কছিম উদ্দীন রচিত ও সুরারোপিত "মাও বড় ধন সোনা'রে" গানটি এরকমই একটি গান। তিনি তাঁ...

পাবলিকের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা কোত্থেকে আসে?

Image
লিখেছেনঃ সাম্য রাইয়ান এদেশে কোনো বাজে ঘটনা ঘটার পর ভাইরাল হলেই আমরা দেখি দলে দলে পাবলিক অনলাইনে এবং অফলাইনে (চায়ের দোকানে কিংবা গলির মোড়ে) সেই ঘটনায় ভিকটিমকে ব্লেইম করছে কিংবা এমন মন্তব্য করছে যা অনেকক্ষেত্রেই অসভ্য, বর্বর৷ প্রশ্ন হলো পাবলিকের এই ধরনের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা কি আকাশ থেকে টুপ করে পড়ে? না কি তারা এইসব চিন্তা মাথা খাটিয়ে তৈরি করে? তাদের জাজমেন্টাল বক্তব্যগুলো কেন ‘পাওয়ার’ এর পক্ষে যায়? এর কারন একটাই৷ তাদের সকল পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা ‘ভিত্তিহীন’ নয়৷ এগুলোর ‘ভিত্তি’ রয়েছে৷ যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তারা জাজমেন্টাল বক্তব্য প্রদান করেন৷ এই ‘ভিত্তি’ কখনো আইন, কখনো প্রথা, কখনো অন্য কিছু৷ আর এই পশ্চাৎপদ চিন্তার ভিত্তি তৈরি করে দেয় রাষ্ট্র৷ যেমন ধরুন, কোনো নারী ধর্ষিত হলে পাবলিক দোষীর শাস্তি নিয়ে যতোটা না সোচ্চার হয় তার অধিক আলোচনা করে (প্রশ্ন তোলে) ভিক্টিমের চরিত্র নিয়ে৷ পাবলিকের এহেন ‘ভিক্টিম ব্লেইমিং’ এর ভিত্তি হলো আইন৷ বাঙলাদেশে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে প্রমাণ আইনের ১৫৫ নং অনুচ্ছেদের একটি উপধারা অনুযায়ী, আদালতে ভিক্টিমের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে৷ এই আইন মোতাবেক, একজন পুরুষ...